Top

Welcome To Official Website Of Aid For Men

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য মতে বাংলাদেশের মোট অপহরণ মামলার ৮৪ শতাংশ প্রেমঘটিত!

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য মতে বাংলাদেশের মোট অপহরণ মামলার ৮৪ শতাংশ প্রেমঘটিত!

By: Shawon Ahmed (Desk) || Date: 18 Oct 20

রিলেশন, প্রেম, ভালোবাসা শব্দ গুলো এখনকার সময়ে অনেক বেশি পরিচিত। ছেলে মেয়ের মনের আদান প্রদানে তৈরি হয় এই সম্পর্ক। তবে, সব প্রেমের সম্পর্ক কিন্তু পারিবারিক ভাবে মেনে নেওয়া হয় না। প্রেমের সেই আদিকাল থেকেই লায়লা মজনু র যে ঘটনা মুখে মুখে আমরা শুনে আসছি সেই সম্পর্ক ও কিন্তু পারিবারিক ভাবে সম্মতি পায়নি। এই মুহূর্তে এসে আপনি ভাবতে পারেন আরে অপহরণের মামলার কথা বলে আমি প্রেম বিষয়ে বক বক কেন করছি। একটু অপেক্ষা করুন, সব বুঝিয়ে বলছি। সাথে এও বলছি যে
আপনি যদি ছেলে হন তাহলে প্রেম করলেই আপনি সম্ভাব্য কি কি মামলা আসসামি হতে পারেন!!

সম্প্রতি ‘কন্ট্রোল রিস্ক' নামে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ‘অপহরণের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম৷' আর এ তথ্য বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর, তার প্রতিবাদ জানিয়েছে পুলিশ বিভাগ৷ পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহা পরিদর্শক (এআইজি) মো. নজরুল ইসলাম প্রতিবাদ লিপিতে বলেন, ‘‘পৃথিবীর নবম সর্বোচ্চ জনবহুল দেশ বাংলাদেশে প্রেমঘটিত কারণে পালিয়ে গেলেও সেক্ষেত্রে অপহরণের মামলা হয়৷ এখানে প্রেমিক কর্তৃক প্রেমিকাকে অপহরণের মামলা মোট অপহরণ মামলার ৮৪ শতাংশ৷''
হ্যা আপনি ঠিকই শুনছেন বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য মতে বাংলাদেশের মোট অপহরণ মামলার ৮৪ শতাংশ প্রেমঘটিত!
এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে প্রেমঘটিত অপহরণ মামলা আবার কি?
ধরুন উঠতি বয়সের কলেজ পড়ুয়া দুজন ছেলেমেয়ে একটি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ল।
এখন পরিবার এই প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে চাচ্ছে না দেখে ছেলে মেয়ে দুজনে সিদ্ধান্ত নিল পালিয়ে বিয়ে করার।
যখনি পরিবারের অমতে ছেলে-মেয়ে পালিয়ে যায় তখনই মেয়ের বাবা-মা থানায় গিয়ে ছেলে এবং ছেলের বাবা-মা বন্ধুবান্ধব এর বিরুদ্ধে একটি অপহরণের মামলা করে দেয়।
এসকল ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় যে পালিয়ে যাওয়া ছেলে-মেয়েরা উঠতি বয়সের বা টিনেজার হয়ে থাকে।
ছেলে মেয়ে দুজনে মিলে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এই সকল ক্ষেত্রে দেখা যায় অপহরণ,ধর্ষনের মত গুরুতর অভিযোগ মামলা হয় শুধু মাত্র ছেলে ও ছেলের পরিবার ও তার বন্ধুবান্ধব এর বিরুদ্ধে!

#প্রেমিক-প্রেমিকা পালিয়ে গেলে কেন অপহরণের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়? ডয়চে ভেলের এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এআইজি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘‘বিধি-বিধানের কারণেই বাংলাদেশ পুলিশ প্রেমিকদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা নিয়ে থাকে৷তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশে প্রকৃত অপহরণের সংখ্যা কম৷ প্রেমঘটিত অপহরণ বাদ দিলে তা মাত্র ১৬ ভাগ৷''

কোন বিধি বিধানের কারনে প্রেমিক-প্রেমিকা পালিয়ে গেলে প্রেমিকের বা ছেলেও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলায় হয় এমন প্রশ্নে করলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট কাওসার হোসেন বলেন.......


একটা জিনিস স্পষ্ট প্রেমের সম্পর্কে পালিয়ে গেলে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় আইনে ধরেই নেয়া হয় ছেলেটিই মেয়েটিকে প্ররোচিত করেছে পালিয়ে যেতে!! কিন্তু বাস্তব চিত্র কিন্তু সবসময় একরকম নয়, কয়েকটা ভিডিও চিত্র দেখলে আমাদের কিছু ধারণা হয়তোবা পরিবর্তন হবে,,


মেয়ে পালিয়ে গেলেই মেয়ের পরিবারের লোকজন এর প্রথম ও প্রধান কাজ, ছেলের নামে আগে একটা অপহরণ মামলা করা। যেখানে ছেলে মেয়ে দুই জনই দোষী সেখানে সুধু ছেলের নামেই কেন মামলা হয়?? অনেকেই বলতে পারেন একটা মেয়ে যখন পালিয়ে যায় তখন তার পরিবারের উপর দিয়ে বয়ে যায় অনেক বড় এক ঝড়, পরিবারের সদস্যরা কোন দিসা না পেয়েই আইনের আশ্রয় নেয়। হ্যাঁ হঠাৎ করে কেউ নিখোঁজ হলে অবশ্যই তা খুবই চিন্তার বিষয়। কিন্তু অপহরণ এর মামলা গুলো মেয়ের পরিবার জেনে বুঝে ছেলের নামে করে।

এ বিষয়ে পুরুষের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন কর্মি সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন,,,,

যে কোন আইন তৈরি হয় ন্যায়বিচার ও অপরাধীকে শাস্তির উদ্দেশ্যে প্রকৃত অপহরণকারীর কঠিনতর শাস্তি হোক সেটা আমাদেরও দাবি। কিন্তু কোন আইন যেন পুরুষের হয়রানির হাতিয়ার না হয়ে ওঠে সেটাও রাষ্ট্র কে নিশ্চিত করতে হব। আমরা চাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে বাংলাদেশের সমস্ত আইন লিঙ্গনিরপেক্ষ তার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।